Thursday, January 31, 2013

হীরক রাজার নতুন দেশে............

   
        সত্যজিৎ রায় অনেক দিন আগে বানিয়ে গেছেন কালজয়ী ছবি হীরক রাজার দেশে। হীরকের রাজা ও তাঁর গবেষক এরপর এখন কিংবদন্তি। আর ছবিটিও যেন সব সময় আধুনিক এবং সব কালের সব শাসকদের বিরুদ্ধে এক নীরব প্রতিবাদ। তারই আদলে সত্যজিৎ রায়ের ছবির চরিত্রগুলো ঠিকঠাক রেখে শুধু সময়ের ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে সেই ঐতিহাসিক চরিত্রগুলো কেমন আচরণ করত, তাই কল্পনা করা হয়েছে।


রাজা: কী গবেষক, আছো কেমন?
তা দেখা নাই কত দিন?
গবেষক: নমস্কার, হীরকের রাজা মহান
এই তো হবে দু-চার দিন!
রাজা: তা জনগণ আছে কেমন
কেউ কি কিছু কয়?
গবেষক: কওনের মতো কিছু আছে নাকি
ঢুকিয়ে দিয়েছি গুমের ভয়,
সব কটার এখন মুখে কুলুপ
যা সওয়াবেন তাই সয়।
রাজা: আহা বেশ বেশ, এটাই তো চাই!
গবেষক: জি জনাব, এই তো করি গবেষণায়!
রাজা: দেশের জনগণ কী করে রাতে
ঘুমায় না জেগে থাকে তাহারা?
গবেষক: আপনি নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারেন,
আপনি তো আর দিবেন না ওদের বেডরুম পাহারা!
রাজা: তা গবেষক এবার শোনাও দেখি
নতুন কী হলো আমার রাজ্যে!
গবেষক: আপনার এক মন্ত্রী ঘুষের টাকা নিয়ে
ধরা খেয়েছে গাড়ির ড্রাইভারের সাহায্যে!
মন্ত্রী সাহেব ভেবেছিলেন ধরবেন কালো বিড়াল,
নিজেই এখন বিড়াল সাজলেন, সবই হলো আড়াল।
রাজা মশায় আপনি বড়ই মহান,
আপনার লোকজন সবাই ভাগজোক করে খান।
রাজা: তাহলে কিছু বলো!
গবেষক: আমাদের রাজা মহৎ প্রাণ
যাহা পান তাহাই খান।
রাজা: বেশ বেশ! তা চলছে কেমন দেশ?
বলো কী খবর এনেছ বৃত্তান্ত সবিশেষ!
গবেষক: দেশ নিয়ে ভাবতে হবে না অত!
সমাবেশে দেখেন না মানুষ আসে কত!
রাজা: তা দেশের যোগাযোগের কী অবস্থা
মানুষজন কি এখন আর কিছু কয়?
গবেষক: নাহ! কওয়ার মতন কি কিছু আছে মহাশয়
এমনভাবে কেটেকুটে রেখেছি, এখন তো হেঁটে পার হয়!
রাজা: খুনখারাবি কি হয়েছে বন্ধ?
গবেষক: রাজা মশায় কি হয়েছেন অন্ধ!
এসব কি বন্ধ হওয়ার বিষয়?
এই সব বন্ধ হলে চলবে কী করে সিংহাসন!
রাজা: খাঁটি কথা, হয়েছে যখন দেশের জনগণ
সইতে তো হবেই রাজাদের এইটুকু প্রহসন।
কী ঠিক কি না?
গবেষক: ঠিক ঠিক।
রাজা: তা বিদ্যুৎ নিয়ে সবাই নাকি অসন্তুষ্ট
দিনেও নাকি বিদ্যুৎ যায়, জনগণ ভীষণ রুষ্ট!
গবেষক: তাতে আপনার কি, আপনি তো আছেন এসিতে
মাস শেষে বিল হবে ওদের, না দিলে কাটা যাবে কাঁচিতে!
রাজা: বিদ্যুতের বরাদ্দও নাকি চুরি করে খেল?
গবেষক: তাতে কী-ই বা এসে গেল!
রাজা: তা বিচার-টিচার কি কিছু হচ্ছে?
নাকি অপরাধীরা পার পাচ্ছে বিচারকের ভুলে,
গবেষক: ছিঃ ছিঃ বিচারক তো রাজা মশায় আপনি নিজেই
হচ্ছে কিছু বিচার, কিছু রেখেছি নির্বাচনের জন্য তুলে!
রাজা: সেকি, অপরাধী না ঝুলিয়ে, ঝুলিয়ে রেখেছ বিচারকার্য
দাতাগোষ্ঠীদের বিশ্বাস করাতে পারবা তো এটা একটা রাজ্য!
গবেষক: ওসব আমার ওপর ছেড়ে দিয়ে
নিশ্চিন্তে ঘুমাতে যান বিছানায়,
আপনার নিমক যখন খেয়েছি
উপায় একটা বের করব গবেষণায়।
রাজা: এই নাও গবেষক, এটা তোমার উপহার
তুমি আছো বলেই আমি আজও এই রাজ্যের রাজা!
গবেষক: ছিঃ ছিঃ আর লজ্জা দিবেন না মহাশয়,
যা দেবেন মাথা পেতে নিব উপহার কিংবা সাজা!
রাজা: সবাই যদি হতো তোমার মতো অনুগত?
গবেষক: কী যে ভালো হতো!
না হলেও ক্ষতি কিছু নাই,
রাজা ও গবেষক: আছে না মগজ ধোলাই।
রাজা: বেশ বেশ, আজ তবে যাই গবেষক
দেখা হবে অন্য কোনো দিন।
গবেষক: আপনি অতি মহান রাজা
আপনার কাছেই আমার যত ঋণ।

অমিতাভ নেই.............

                   ভারতীয় চলচ্চিত্রে প্রভাবশালী দুই গুণী ব্যক্তি সত্যজিৎ রায় ও অমিতাভ বচ্চন। জীবদ্দশায় সত্যজিৎ বলিউডের শক্তিমান অভিনেতা অমিতাভকে নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিকল্পনা করেছেন ঠিকই, কিন্তু বাদ সেধেছে তারকা হিসেবে অমিতাভের আকাশছোঁয়া পারিশ্রমিক। এটি এতই চড়া ছিল যে সে ধাক্কা সামলাতে অপারগ ছিলেন সত্যজিৎ। সম্প্রতি এমন চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে সত্যজিতের স্ত্রী বিজয়া রায়ের লেখা ‘মানিক অ্যান্ড আই’ বইয়ে।
বইটিতে বিজয়া লিখেছেন, ‘জয়া বচ্চন আমাকে বলেছিলেন যে মানিক (সত্যজিৎ রায়) চাইলে তাঁর বাংলা ছবিতে সানন্দে কাজ করতে রাজি অমিতাভ। এ কথা আমি যেন মানিককে বলি।’ তো, এ কথা শোনার পর মানিক মৃদু হেসে বলল, ‘অমিতাভকে নিয়ে ছবি তৈরির কথা প্রায়ই ভাবি। কিন্তু তাঁর মতো তারকার পারিশ্রমিক অনেক বেশি। এই বিপুল ব্যয় বহন করার মতো সামর্থ্য এ মুহূর্তে বাংলা চলচ্চিত্রের কারও নেই।’
বিজয়া আরও লিখেছেন, মানিকের এ কথা শোনার পর জয়া অবশ্য তাঁর উদ্দেশে বলেন, ‘এমন করে বলবেন না। আপনার মতো গুণী নির্মাতার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাওয়াটাই অনেক বড় পাওয়া। আমি নিশ্চিত, অমিতাভ খুব বেশি পারিশ্রমিক নেবে না আপনার কাছ থেকে।’
১৯৯২ সালের এপ্রিলে সত্যজিৎ রায়ের মৃত্যুর পর থেকে নিয়ম করে ডায়েরি লিখতেন বিজয়া। ডায়েরিতে টুকে রাখতেন সত্যজিতের সঙ্গে তাঁর জীবনের নানা স্মৃতিময় ঘটনা। সবার কাছে অজানা সেসব গল্প খোলামেলা ও বিস্তারিতভাবে তিনি তুলে ধরেছেন ‘মানিক অ্যান্ড আই’ বইয়ে। বইটি প্রকাশ করেছে পেঙ্গুইন ইন্ডিয়া।

ইসলাম-ই পারে জিবন বদলে দিতে...

                 তিন মাস আগেও তিনি ছিলেন ‘পার্টি গার্ল’। উদ্দাম নাচে মাতাতেন নৈশক্লাব। আকণ্ঠ মদ্যপান করে উল্লাস করতেন। যুক্তরাজ্যের নাগরিক এই নারীর নাম হিদার ম্যাথিউস (২৭) এখন বদলে গেছেন। ছেড়েছেন মদ্যপান। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে এখন তাঁর সম্পূর্ণ উল্টো চেহারা। হিজাব পরেন। তিনি বলছেন, ‘তাঁর “গা-ভাসানো” জীবনে সব ছিল, শান্তি ছিল না। ইসলাম আমাকে “লালসার নয়, প্রকৃত ভালোবাসার” খোঁজ দিয়েছে। পেয়েছি নতুন এক শান্তির জীবন।’
‘ডেইলি মেইল’ পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে হিদার জানিয়েছেন, তিনি একজন শিক্ষানবিশ শিক্ষিকা। এল্লাহ (৫) ও হ্যালি (২) নামে তাঁর দুটি মেয়ে আছে। স্বামী জেরোমের সঙ্গে বছর খানেক আগে ছাড়াছাড়ি হয়েছে।
হিদার বলেন, স্বামী জেরোম ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হলে তাঁর সঙ্গে দ্বন্দ্ব বাধে। জেরোমকে তিনি বোঝানোর চেষ্টা করেন, ধর্ম একটি অর্থহীন ও বায়বীয় বিষয়। তর্কে নিজের পক্ষে জোরালো যুক্তি দাঁড় করানোর উদ্দেশ্যে তিনি পবিত্র কোরআন শরিফসহ ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন বইপত্র পড়েন। এর মধ্যে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়ে যায়। এর পরও তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যান। একপর্যায়ে তাঁর মনে হয় ইসলাম সঠিক জীবনবিধান দেয়। কিছুদিন আগে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।
হিদার বলেন, হিজাবকে তিনি আত্মসম্মানের প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করেছেন। এ ছাড়া বিয়ের পর স্বামী ছাড়া অন্য পুরুষের সঙ্গে সংসর্গ অনৈতিক বলেও তিনি মনে করেন। তিনি মনে করেন, শুধু স্বামীর জন্যই স্ত্রীদের বিশ্বস্ততার সঙ্গে নিজের সৌন্দর্য হেফাজত করা উচিত।
হিদার বলেছেন, তিনি ইংরেজি ভাষায় অনূদিত পবিত্র কোরআন পড়ছেন। একই সঙ্গে আরবি ভাষা শেখারও চেষ্টা করছেন। মদ্যপান ছেড়ে হালাল খাবার খাচ্ছেন। তিনি আরও বলেছেন, বন্ধুদের অনেকেই তাঁকে বলছেন, নতুন ‘খামখেয়ালিপনায়’ তাঁকে পেয়ে বসেছে।
হিদার বলেন, ‘অনেকে ভাবছেন, ইসলাম গ্রহণ করায় আমি মানসিক উত্পীড়নের শিকার হব। কিন্তু আমি জানি, আমি আত্মবিশ্বাসী ও মানসিকভাবে শক্ত একজন স্বাধীন নারী।’
হিদার জানিয়েছেন, তাঁর এই নতুন জীবনকে সহজভাবে মেনে নিতে পারবেন—এমন একজন খাঁটি মুসলমানকে তিনি বিয়ে করতে চান। নিজের সন্তানদের ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করবেন না বলেও জানান হিদার ম্যাথিউস।

ইসরায়েলের সংরক্ষিত এলাকার ছবি ইরানের হাতে !

এ মাসের শুরুতে ইসরায়েলের আকাশসীমায় ড্রোন চালিয়ে দেশটির সামরিক ঘাঁটি ও সংরক্ষিত এলাকার ছবি সংগ্রহ করেছে ইরান। একজন ইরানি আইনপ্রণেতার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে আজ সোমবার এ কথা বলা হয়।
ইসরায়েল তার আকাশসীমার ২৫ মাইল ভেতরে একটি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করে। দুই দিন পর লেবাননের হিজবুল্লাহ গোষ্ঠী ইসরায়েলে ড্রোন পাঠানোর দায়িত্ব স্বীকার করে জানায়, ড্রোনটি ইরানে তৈরি এবং সেটি সন্নিবেশিত করা হয়েছে লেবাননে।
ইরানের বার্তা সংস্থা মেহেরের এক খবরে বলা হয়, পার্লামেন্টের প্রতিরক্ষা কমিটির প্রধান ইসমাইল কাওসারি আজ সোমবার আরবি দৈনিক ‘আল আলম’কে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে জানিয়েছেন, ড্রোনটি ভূপাতিত করার আগে সেটি ইসরায়েলের ‘স্পর্শকাতর’ সামরিক স্থাপনার চিত্র সংগ্রহ করতে পেরেছিল।
কাওসারি বলেন, ‘ড্রোনটি সেসব ছবি অনলাইনে আমাদের কাছে পাঠিয়ে দেয় এবং এখন সেগুলো আমাদের হাতে রয়েছে।’
ভূপাতিত ড্রোনটি ছবি সংগ্রহে সক্ষম ছিল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তেল আবিব থেকে বলেছেন, ‘আমাদের যতটুকু ধারণা, না।’
তেহরান তার পারমাণবিক গবেষণা বন্ধ না করলে ইসরায়েল ইরানের ভেতরের সব পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলার হুমকি দিয়ে আসছে। ইরান পারমাণবিক বোমা বানানোর জন্যই ওই গবেষণা চালাচ্ছে বলে পশ্চিমা দেশগুলো দাবি করলেও ইরান বলছে, ওষুধ ও অন্যান্য মানবিক কাজের জন্যই তারা পারমাণবিক গবেষণা চালাচ্ছে।
ইরান তার সামরিক শক্তি অর্জনের খবর নিয়মিতভাবে ফলাও করে প্রচার করে থাকে। তবে অনেক বিশ্লেষকই মনে করেন, এসব খবর ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে প্রচার করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের অধীনে যাচ্ছে ইন্টারনেটের নিয়ন্ত্রণ!

             ইন্টারনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিতর্ক এখন তুঙ্গে। গত দুই বছরে আরব দেশগুলোর বিদ্রোহে ইন্টারনেটের ব্যবহার বেশ লক্ষণীয়। এ সাইবার ব্যবস্থাটি যে বিভিন্ন সময়ে মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে কাজ করতে সক্ষম, তা আর কারও জানার বাকি নেই। তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মতো বিশাল সামরিক বপুর দেশগুলো বারবার ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের দাবি জানাচ্ছে। কিন্তু নিয়ন্ত্রণকৌশলটি ঠিক কী ধরনের হবে, বা কে নিয়ন্ত্রণ করবে, তা বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, নিয়ন্ত্রণের নাটাইটি থাকবে জাতিসংঘের হাতে।
গত বছরের ডিসেম্বরে দুবাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বিভিন্ন আরব দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে এক বৈঠক হয়। এনডিটিভির এক খবরে আজ সোমবার বলা হয়, ওই বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল বৈশ্বিক টেলিকম আইন সংস্কার করে ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের সব দায়িত্ব জাতিসংঘের হাতে তুলে দেওয়া।
রাশিয়া, চীনসহ অনেক দেশের প্রতিনিধিরা চান ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের কর্তৃত্ব থাকুক আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) হাতে। জাতিসংঘের এই সংস্থা বৈশ্বিক টেলিফোন যোগাযোগের প্রযুক্তিগত মান নির্ধারণ করে থাকে।
কিন্তু মার্কিন প্রতিনিধিরা সেটি করতে নারাজ। তাঁদের বক্তব্য ছিল, নতুন নিয়ম চালু হলে সাইবার স্পেস বা ইন্টারনেটের স্বচ্ছন্দ গতি বাধা পাবে; ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাণিজ্য ও বাকস্বাধীনতা। অনেক স্বেচ্ছাচারী রাষ্ট্র এর মাধ্যমে ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর নিপীড়নের সুযোগ পাবে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, অনেক দেশ নতুন নিয়মের পক্ষে সোচ্চার হলেও ক্ষমতাধর পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো এর বিরোধিতা করবে। এতে উন্নয়নশীল দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের প্রযুক্তি ও জননীতি কার্যক্রমের পরিচালক জেমস লুইস বলেন, ‘এসব আলোচনা খুব বেশি দূর এগোবে বলে মনে হয় না। নাটকীয় কোনো পরিবর্তনও আসবে না। তবে উন্নয়নশীল দেশগুলো চাপাচাপি করলে কিছু একটা হতে পারে। কিন্তু ইন্টারনেট কীভাবে চলবে, তা নিয়ে মতপার্থক্য রয়েই যাচ্ছে এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেই হবে।’
লুইস বলেন, একটি প্রচলিত ভুল ধারণা হলো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইন্টারনেটের স্বত্বাধিকারী ও নিয়ন্ত্রক। বিরোধীদের একটি ‘শক্ত যুক্তি’ হলো, ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি বিশ্ব সংস্থা প্রয়োজন। কিন্তু নতুন আইনটি যেন মানবাধিকার রক্ষার প্রশ্নে দেশীয় আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়, তা আমাদের লক্ষ রাখতে হবে।’
দুবাই বৈঠকে বিশেষ মার্কিন প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টেরি ক্রামের। সম্প্রতি এক সভায় তিনি বলেন, ‘কোনো ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান, সরকার বা বহুজাতিক কোম্পানি ইন্টারনেটের স্বত্বাধিকারী নয় বলেই যথাযথভাবে এর বিকাশ সম্ভব হয়েছে। ইন্টারনেটের কোনো কেন্দ্রীয় কার্যালয় নেই। এর উন্মুক্ততা ও বিকেন্দ্রীকরণই এর শক্তি।’
আইটিইউর প্রধান হামাদোন তোরে বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো আন্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে তাঁর সংস্থাটি অনেক অভিজ্ঞ। ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর এক কলামে তিনি লিখেছেন, প্রচলিত আইনটি এমনভাবে সংস্কার করতে হবে যাতে আইটিইউর প্রধান অংশীদারদের স্বার্থ অক্ষুণ্ন থাকে।
কিন্তু, মার্কিন বেসরকারি সংস্থা পাবলিক নলেজের কর্মকর্তা হ্যারল্ড ফেল্ড বলছেন, এ ক্ষেত্রে যেকোনো নতুন আইন বিপজ্জনক হতে পারে।
কিছুদিন আগে ফেল্ড তাঁর ব্লগে লিখেছেন, রুশ ফেডারেশন এবং কিছু আরব রাষ্ট্রের এসব প্রস্তাব থেকে এই প্রথমবারের মতো অনলাইন যোগাযোগ ও ইন্টারনেট সেবায় বাধা দেওয়ার সরকারি অভিসন্ধি বোঝা গেল।
স্টিভেনস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির সাইবার নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত পল রোমেয়ার বলেন, ওই বৈঠকে স্বচ্ছতার অভাবের কারণে অনেক বিভ্রান্তি রয়ে গেছে। তিনি বলেন, ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের জন্য কেন আইটিইউকে বেছে নেওয়া হচ্ছে, সেটি এখনো অজানা।
কিছু পর্যবেক্ষক বলছেন, সাইবার স্পেসের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করেছে এমন একটি ভাইরাস হলো ফ্লেম। আইটিইউ নিজের নিরাপত্তায় শঙ্কিত হয়ে ভাইরাসটি পর্যবেক্ষণের জন্য একটি রুশ প্রতিষ্ঠানকে ভাড়া করেছে।
রোমেয়ার বলেন, ‘এর পেছনে কোনো চক্রান্ত চলছে কি না বোঝা মুশকিল। বলা হচ্ছে, ইন্টারনেট একটি বিপজ্জনক স্থান এবং এর সুবাদে আরও নিয়ন্ত্রণ আরোপের চেষ্টা চলছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের সাইরাকাস বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তিবিদ্যার অধ্যাপক মিলটন ম্যুলার বলেন, যেসব বিষয় নিয়ে এত কথা হচ্ছে, সেগুলোর বেশির ভাগই অপ্রাসঙ্গিক। আইটিইউ এরই মধ্যে সব রাষ্ট্রকে নিজেদের যোগাযোগব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের কর্তৃত্ব দিয়ে দিয়েছে।
ম্যুলার বলেন, টেলিযোগাযোগ উন্মুক্ত করার ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতায় নিজেদের রক্ষার জন্য প্রতিক্রিয়াশীল সরকারগুলো যে নিয়মগুলো আরোপ করতে যাচ্ছে, সেগুলো নানা বিতর্কের ডামাডোলে হারিয়ে যাচ্ছে। মনে রাখতে হবে, এসব নিয়ন্ত্রণের মাত্র একটি হলো ইন্টারনেট।